dark_mode
Wednesday, 17 August 2022
Logo
প্রায় সাড়ে চার কোটি মানুষের ঢাকা ও বাস্তবতা

ছবিঃ সংগৃহীত

প্রায় সাড়ে চার কোটি মানুষের ঢাকা ও বাস্তবতা

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম  আদমশুমারিতে ঢাকা শহরের জনসংখ্যা মাত্র ষোল লাখ হলেও মাত্র পঞ্চাশ বছরে সেই সংখ্যা পৌছেছে সাড়ে চার কোটিতে। এই দ্রুতবর্ধনশীল জনসংখ্যার শহরে প্রতিনিয়ত বাড়ছে জনসংখ্যা। এই বর্ধনশীল জনসংখ্যার ফলে  সুবিধা ও অসুবিধা দুটোই সৃষ্টি হচ্ছে।

 

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর ঢাকা শহরে প্রায় ছয় লক্ষ মানুষ নতুন করে এসে বসবাস শুরু করে। এভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে ২০৩০ সাল নাগাদ ঢাকা বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম মেগাসিটিতে রূপান্তরিত হবে। অথচ আয়তনে ঢাকা শহর অনেক ছোট। এতো মানুষের আবাসন, কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে গিয়ে সম্পূর্ণ অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে ঢাকা শহর। 

 

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে,  ঢাকা যেহেতু আয়তনে খুব বড় নয় তাই জনসংখ্যা ক্রমশ বাড়তে থাকলে সমস্যাবিহীন ঢাকা শহর কখনোই দেখা যাবে না। ঢাকার সঙ্গে অন্যান্য বিভাগীয় এবং জেলা শহরগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করে সেখানে বিচার বিভাগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যাংকিং সেবাসহ নানা ক্ষেত্রের বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। পয়ঃনিষ্কাশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সমস্যা সমাধান আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ঢাকা শহর রক্ষার জন্য। শিল্পকারখানা ও ব্যবসা-বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঢাকা শহরের অভ্যন্তরে না রেখে দেশব্যাপী  সম্প্রসারণ করার উদ্যোগ নেওয়ার বিকল্প নেই এ মুহুর্তে। এতে ঢাকার বাইরে অনেক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং মানুষ নিজ এলাকায় থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে।

 

২০২১ সালের ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ এর প্রতিবেদন   অনুসারে, ঢাকা পৃথিবীর সবচেয়ে জনবহুল শহরগুলোর তালিকায় সপ্তম স্থানে রয়েছে। যা ২০২২ এ এসে আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া আয়তনের তুলনায় জনসংখ্যার হিসাবে ঢাকা পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ। এ শহরের জনঘনত্ব অতিমাত্রায় অস্বাভাবিক। পৃথিবীর কোনো জনপদের মানুষ কখনো এত ঘনবসতিপূর্ণ হয়ে বসবাস করেনি। এ সমস্যা থেকে বাঁচতে যত দ্রুত সম্ভব বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) বাস্তবায়ন করা জরুরি হয়ে উঠেছে। একটি এলাকায় কত মানুষ থাকবে, ওই সব মানুষের নাগরিক সেবার মান কেমন হবে- ড্যাপ এ সে বিষয়ে আলোকপাত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি এলাকারই একটি নিজস্ব ধারণক্ষমতা থাকে।ধারণক্ষমতা অতিক্রম করলে তার চাপ সবক্ষেত্রেই পড়ে থাকে। রাজউক এর নতুন ড্যাপ প্রণয়নের কাজ চলছিলো ২০৩৫ সাল পর্যন্ত ২ কোটি ৬০ লাখ মানুষের কথা মাথায় রেখে (প্রথম খণ্ড, অনুচ্ছেদ ১.২.৩)। কিন্তু সম্প্রতি প্রকাশিত আদমশুমারী অনুযায়ী, ঢাকা জনসংখ্যা সাড়ে চার কোটির কাছাকাছি হয়ে গেছে। যা পুরো ঢাকা শহরের জন্য অশনি সংকেত।

 

স্বাধীনতা পরবর্তী ঢাকা আর আজকের ঢাকার মধ্যে অনেক পার্থক্য। স্বাধীনতার পর ঢাকার জনসংখ্যা কম ছিলো বলে সবক্ষেত্রেই সমস্যার পরিমাণও কম ছিলো। কিন্তু দিনদিন জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সমস্যার পরিমাণ বেড়েছে। সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও জনসচেতনতা ছাড়া এ সমস্যা থেকে মুক্তি মেলা সম্ভব নয়। ঢাকামুখী জনসংখ্যার চাপকে কমিয়ে পুরো বাংলাদেশে বিস্তৃত করতে সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে।
#এওয়াই

Share this news

Print this news

  • comment / reply_from

    face comment

    উদ্যোক্তা জীবনের সুবিধা-অসুবিধা

    এ এইচ এম রাফছান

    বাংলাদেশে ক্রমান্বয়ে বিকাশ ঘটছে উদ্যোক্তা সংস্কৃতির। বিশেষ করে বিগত পাঁচ বছরে এদেশের মানুষ সবচেয়ে বেশি উদ্যোক্তা শব্দটির সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে শিখছে। একটা প্রজন্ম চাকরির জন্য হন্যে হয়ে ঘুরতো, আজ তাদেরই পরবর্তী প্রজন্ম ছড়িয়ে দিচ্ছে উদ্যোক্তা শব্দটি।

     

    দেশের বেশিরভাগ তরুণ এখন কোনো না কোনোভাবে উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখছে আর এক্ষেত্রে পরিবার থেকে যেমন অনেকেই উৎসাহ পাচ্ছে, ঠিক তেমনি উদ্যোক্তাবান্ধব বাংলাদেশ গড়তে গড়ে উঠেছে নানা প্রতিষ্ঠান।অথচ এক যুগ আগেও কিন্তু উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন খুব একটা কেউ দেখতো না। এখনও উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য জীবন সংগ্রাম করতে হয় এবং এ সংগ্রামের রাস্তা এখনো কাঁটাযুক্ত আছে অনেকটা। হুট করেই অনেকে উদ্যোক্তা জীবনে প্রবেশ করে পরবর্তীতে অনভিজ্ঞতার কারণে থমকে যান এবং জীবন অসুন্দর হয়ে যায়।

     

    উদ্যোক্তা হওয়ার আগে কিছুদিন চাকরি করা নিয়ে প্রচলিত আছে ইতিবাচক ও নেতিবাচক ধারণা। তবে কোনোটাকেই পুরোপুরি মেনে নেওয়া যায় না। কিছু সুবিধা ও অসুবিধা তো বিদ্যমান আছেই। আজ উদ্যোক্তা জীবনে প্রবেশের পূর্ববর্তী সুবিধা ও অসুবিধাসমূহ নিয়ে আলোচনা হয়ে যাক।

     

    চাকরি পরবর্তী জীবনে উদ্যোক্তা হওয়ার অনেকগুলো সুবিধার মধ্যে সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো একটি কর্মক্ষেত্রে কেমন নিয়ম-নীতি মেনে চলতে হয় তা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা অর্জন করা যায়। যা পরবর্তীতে নিজ প্রতিষ্ঠানের নিয়ম-নীতি প্রণয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। ঠিক তেমনি শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবন, দক্ষতা অর্জন ও পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি করা যায় চাকরি করার মাধ্যমে। যা পরবর্তীতে উদ্যোক্তা জীবনে সফল হতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। একজন উদ্যোক্তার জন্য জনসম্পদ ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞ হওয়া, বাজার যাচাই ও নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুরুতেই উদ্যোক্তাজীবনে প্রবেশ করলে এসব অর্জন কঠিন হলেও জীবনের প্রথম পর্যায়ে কিছু সময় চাকরি করলে তা সহজ হয়ে যায়।

     

    একজন উদ্যোক্তা যখন চাকরি জীবন ছেড়ে চলে আসেন, তখন তিনি আর প্রতি মাসে নির্দিষ্ট সংখ্যক বেতন পান না। ব্যবসায় প্রবেশের পর বিনিয়োগ পরবর্তী ফলাফল পেতে একটু সময় প্রয়োজন হওয়ায় অনেকেই হতাশ হয়ে পড়েন। চাকরিকালীন সময়ে যোগ্যতা অনুযায়ী পরিবারকে নিয়ে বিলাসী জীবনযাপনের সুযোগ থাকলেও উদ্যোক্তারা বেশিরভাগ সময় তা নিশ্চিতে একটু সময় নেন, যেজন্য পারিবারিকভাবে ভুল-বোঝাবুঝির সৃষ্টি হতে পারে। হঠাৎ কেউ একজন চাকরি ছেড়ে ব্যবসায় প্রবেশ করলে তার জীবনমানের যেমন পরিবর্তন হয়, ঠিক তেমনি অনেকসময় সামাজিক অবস্থানের দিক দিয়ে পূর্বের চেয়ে অনেকটা নিচে নামতে হয় কিছুক্ষেত্রে।

     

    সরাসরি উদ্যোক্তা জীবনে প্রবেশ নাকি কিছুদিন চাকরি করে উদ্যোক্তা জীবনে প্রবেশ করতে হবে তার সঠিক কোনো উত্তর না থাকলেও, কেউ উদ্যোক্তা হতে চাইলে তাকে খুব বেশিদিন চাকরিতে অবস্থান করা ঠিক নয়। উদ্যোক্তা জীবন মানেই যেহেতু ঝুঁকি নেওয়া, তাই সে অভ্যাস যত আগে করা যায় ততই ভালো। অবশ্য পারিবারিকসহ বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে ও দক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যে কিছু সময় চাকরিতে অবস্থান করাও অত্যন্ত জরুরি।

    #এওয়াই

    স্বপ্নজয় সততা ও দৃঢ়তার নিদর্শন পদ্মা সেতু

    ডিবিবি

    জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য উত্তরসূরি আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার সফল রাষ্ট্রনায়ক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অসীম সাহসিকতা, বিপুল আত্মবিশ্বাস, সততা ও দৃঢ়তায় সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করে এক অনন্য ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন।

     

    মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পদ্মা নদীর ওপর নির্মিত পদ্মা সেতু আগামীকাল ২৫ জুন ২০২২ উদ্বোধন করবেন। বাংলার জনগণ চেয়েছিল এই সেতুর নাম তাঁর (শেখ হাসিনা)  নামে করার জন্য। কিন্তু তিনি তাতে সায় দেননি। যিনি ইতিহাস রচনা করেন, তার নাম ফলকে নয়, তাঁর নাম থাকবে মানুষের অন্তরে। ‘শেখ হাসিনা’ বাংলার মানুষের হৃদয়ে চির অম্লান থাকবেন।

     

    পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের পদক্ষেপ হিসেবে ২০০০ সালে প্রাক সম্ভাব্যতা পরিচালনা করা হয় এবং এর ভিত্তিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০১ সালের ৪ জুলাই তারিখে মাওয়া অবস্থানে পদ্মা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সম্ভাব্যতা সমীক্ষার ভিত্তিতে ১০,১৬১.৭৫ কোটি টাকা (দশ হাজার একশ একষট্টি কোটি পঁচাত্তর লক্ষ টাকা) প্রাক্কলিত ব্যয় সংবলিত ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল (ডিপিপি) ২৪ আগস্ট ২০০৭ তারিখের একনেক সভায় অনুমোদিত হয়। অনুমোদিত ডিপিপি অনুযায়ী সেতুর দৈর্ঘ্য ছিল ৫.৫৮ কিলোমিটার। সেখানে তিনটি স্প্যান নেভিগেশন ক্লিয়ারেন্সের কথা উল্লেখ ছিল। ডিটেইলড ডিজাইনের পর ডিপিপি সংশোধন করা হবে, তাও প্রথম ডিপিপিতে উল্লেখ ছিল। পরে বিস্তারিত ডিজাইন অনুযায়ী সেতুর দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পেয়ে হয় ৬.১৫ কিলোমিটার (ভায়াডাক্টসহ ৯.৮৩ কিলোমিটার) এক লেভেলের পরিবর্তে দুই লেভেলের সেতু অর্থাৎ সড়ক এবং রেলের উভয় সুবিধার জন্য দ্বিতল সেতু নির্মাণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ৩টি স্প্যানের স্থলে ৩৭টি স্প্যানের নেভিগেশন ক্লিয়ারেন্সের জন্য উচ্চতা বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ এবং গ্যাসের প্রভিশন রাখা, অপটিক্যাল লাইন পরিবহনের সুবিধা, সংযোগ সড়কের উচ্চতা বৃদ্ধি, ভূমিকম্পের সহনীয়তা মাথায় রেখে সিসমিক লোডিং বৃদ্ধিকরণ, ভূমি অধিগ্রহণের পরিমাণ বৃদ্ধি ইত্যাদি কারণে ২০,৫০৭.২০ কোটি টাকা (বিশ হাজার পাঁচশ সাত কোটি বিশ লাখ টাকা) ব্যয়ে সংশোধিত ডিপিপি ২০১১ সালের ১১ জানুয়ারির একনেক সভায় অনুমোদিত হয়।


    ২০১৬ সালে পদ্মা সেতু প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনী আনা হয়। সংশোধনীতে প্রকল্প ব্যয় ধরা হয় ২৮,৭৯৩.৩৯ কোটি টাকা (আটাশ হাজার সাতশ তিরানব্বই কোটি ঊনচল্লিশ লক্ষ টাকা) যা ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে অনুমোদন করা হয়।

     

    পদ্মা সেতু হচ্ছে আমাদের আত্মমর্যাদা, দৃঢ়তা ও অর্থনৈতিক শক্তিমত্তার প্রতীক। সব অসত্য ও ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে আমাদের পদ্মা সেতু নির্মিত হয়েছে, তাও নিজেদের টাকায় বাইরের কারও দয়ায় নয়।

     

    বিপুল সাহস নিয়ে মনের মধ্যে শত প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে যেভাবে তিনি জনগণের স্বপ্নের পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছেন- তার শতভাগ উপলব্ধি হয়তো কখনই আমরা করতে পারব না। যড়যন্ত্রকারীরা পদ্মা সেতু নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরিবারকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে, প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্য, উপদেষ্টা এবং সচিবকে। কিন্তু সব অসৎ ও অশুভ-উদ্দেশ্যকে নস্যাৎ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলার জনগণকে পাশে নিয়ে বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়িত করেছেন, বাংলাদেশকে জয়ী করেছেন।

     

    মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চ্যালেঞ্জ আর ইস্পাত কঠিন দৃঢ়তায় সব চক্রান্তের অবসান হয়। নেতৃত্বের অবিচল দৃঢ়তার কাছে বিশ্বব্যাংকসহ সব দাতাগোষ্ঠীর মোড়লিপনা এবং মিথ্যা অহমিকার পরাজয় ঘটে।

     

    পদ্মা সেতুর অর্থায়নে ২০১১ সালের ২৮ এপ্রিল বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। আকস্মিকভাবে মিথ্যা অপবাদ, গুজব, অপপ্রচারের ওপর ভিত্তি করে ২০১২ সালের ২৯ জুন পদ্মা সেতু প্রকল্পে ‘দুর্নীতির চেষ্টার কল্পিত অভিযোগ’ এনে বিশ্বব্যাংক ঋণচুক্তি বাতিল করে দেয়।

     

    তখন বঙ্গবন্ধু-কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলেন। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বললেন কোনো দুর্নীতির প্রশ্নই ওঠে না। অতঃপর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ৯ জুলাই ২০১২ তারিখের সভায় নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হলো। একই সঙ্গে ঋণচুক্তি বাতিল করা সংক্রান্ত তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার জন্য বিশ্বব্যাংককে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করা হবে না মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরবর্তী সময় দেখা যায়, বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তে সে অভিযোগ প্রমাণ হয়নি, এমনকি ২০১৭ সালে কানাডার একটি আদালতের রায়ে পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ ভিত্তিহীন বলা হয়। বিশ্বব্যাংক এবং দাতাগোষ্ঠীর ঋণসহায়তা ছাড়াই নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু তৈরির কাজ শুরু করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ও জাতির গৌরবের এক ইতিহাস রচনা করেছেন।

     

    সরকার, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং সচেতন মহলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে খরচ বৃদ্ধির যৌক্তিকতা যখন তুলে ধরা হচ্ছে, তখন আবার কেউ কেউ বলা শুরু করছে টোল আদায়ের হারটা বেশি হয়ে গেছে। টোলের হার নির্ধারণের যৌক্তিকতার প্রসঙ্গ টেনে ১৮ জুন ২০২২ রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এক জাতীয় সেমিনারে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান বলেন, তিনি একজন ট্রাক চালকের সঙ্গে কথা বলে দেখেছেন, পদ্মা সেতুতে মাঝারি ট্রাকের (৫ থেকে ৮ টন) জন্য টোল ২৮০০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও (পূর্ববর্তী ১৮০০ টাকা) ফেরিতে তোলা বাবদ ২০০ টাকা, দুই-তিন দিন আটকা পড়লে ট্রাকে থাকা দুজনের খরচ বাবদ আরও ২ হাজার বা তার বেশি টাকা এবং অন্যান্য খরচ বাবদ তাদের হিসাব মতে, ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ হতো। এ ছাড়া চার থেকে পাঁচ দিন সময় নষ্ট হতো। ঘাটে ২/৩ কিলোমিটারের লাইন যে অসহনীয় তা ভুক্তভোগীরাই অনুমান করতে পারবেন। এখন একই ট্রাক চার-পাঁচ দিনে ২-৩টা ট্রিপ দিতে পারবে। তাই যারা সমালোচনা করছেন, তা যথার্থ নয়।

     

    অর্থনৈতিক দিক পর্যালোচনা করলে বলা যায়, পদ্মা সেতু দেশের অর্থনীতিকে সচল ও অধিকতর চাঙ্গা করতে ব্যাপক ভূমিকা পালন করবে। এই সেতু চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মানুষ ও পণ্য পরিবহনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হবে। পদ্মা সেতু ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের ২১টি জেলার যোগসূত্র স্থাপন করবে। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চেহারা বদলে দেবে পদ্মা সেতু।

     

    দেশের অন্যতম গুরূত্বপূর্ণ দুটি নৌবন্দরের একটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এলাকায় অবস্থিত। মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দর নতুন উদ্যমে চালু থাকবে। পদ্মা সেতুর মাধ্যমে নিকট ভবিষ্যতে রেল যোগাযোগ ঢাকা থেকে যশোর হয়ে দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। যাত্রীসাধারণ ভ্রমণ এবং পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় সাশ্রয় করতে পারবেন। পদ্মা নদীর উভয় পারে মুন্সীগঞ্জ, শরীয়তপুর ও মাদারীপুর জেলায় ভূমি অধিগ্রহণের ফলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন পরিকল্পনা অনুসারে নদীর দুই পারে ৭টি মডেল টাউন তৈরি করে দেওয়া হয়েছে।

     

    বর্তমানে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে শিল্পায়নের অবস্থা তেমন উন্নত ও যুগোপযোগী নয়। এই দক্ষিণাঞ্চলে কৃষিপণ্য উৎপাদন হয় বটে, কিন্তু যোগাযোগ সমস্যার কারণে নিঃসন্দেহে দরিদ্র কৃষক তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পদ্মা সেতুর মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তন হবে। পাশাপাশি এ সেতুকে কেন্দ্র করে নতুন শিল্প-কলকারখানা গড়ে উঠবে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে সচল রাখবে।

     

    পদ্মা সেতু ও সংযোগ সড়ক এশিয়ান হাইওয়ে রুট এএইচ-১-এর অংশ হওয়ায় তা যথাযথ ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে। দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে এশিয়ান হাইওয়ে এবং এশিয়ান রেলওয়ের যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এই পথে ভারত, ভুটান ও নেপালের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে সুবিধা হবে। খুলনা থেকে ঢাকার দূরত্ব প্রায় ২৭০ কিমি, কিন্তু কখনো কখনো সময় লাগে ৮/১০ ঘণ্টা, পদ্মা সেতু দিয়ে সেই ভ্রমণ সময় কমে আসবে মাত্র ৪ ঘণ্টায়। পদ্মা সেতু ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, কাঁচামাল সরবরাহ ও শিল্পায়ন সহজতর করতে সহায়তা করবে। ফলে গড়ে উঠবে বড় বড় শিল্প ও শিল্পাঞ্চল। চিংড়ি, কাপড় ও পাটজাত পণ্যের ব্যবসার আরও প্রসার ঘটবে। সেতুর পাশে গড়ে উঠবে বিভিন্ন ধরনের বিনোদন পার্ক ও পর্যটন কেন্দ্র, হোটেল-মোটেল এবং বেসরকারি শিল্প শহর।

     

    দক্ষিণাঞ্চলের কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত, সুন্দরবন, ষাটগম্বুজ মসজিদ, মাওয়া ও জাজিরায় পুরনো-নতুন রিসোর্টসহ পর্যটনকেন্দ্র দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করবে। ফলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়বে।

     

    বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সততা, দৃঢ়তা, প্রজ্ঞা ও সাহসিকতার কাছে পরাজিত হয়েছে ষড়যন্ত্রকারীরা। সারাবিশ্বকে শেখ হাসিনা আবারও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অমর বাণীকে ধারণ করে দেখিয়ে দিয়েছেন- ‘বাঙালি জাতিকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারেনি এবং পারবেও না কোনোদিন।’ এই জয় বাংলার মানুষের। এই জয় বঙ্গবন্ধুর কন্যা দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার।


    জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য উত্তরসূরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববাসীকে আবারও চিনিয়েছেন- বাঙালি মাথা নোয়াবার নয়। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, জয়তু শেখ হাসিনা

    লেখক: মোঃ বাহাউদ্দিন বাহার, সাবেক ছাত্রনেতা ও উন্নয়ন কর্মী, baharcou2009@gmail.com

    মা দিবসের আহ্বান, 'মায়েরা সন্তানের বোঝা নাহোক'

    আকবর চৌধুরী

    আজ রবিবার (৮ মে) বিশ্ব মা দিবস। মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসার জন্য কোনো আলাদা দিন-ক্ষণের প্রয়োজন না হলেও বিশ্বব্যাপী আজকের দিনটি পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব মা দিবস’ হিসেবে। অর্থাৎ প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার মা দিবস পালন করা হয়।

     

    ছোট বেলার পাঠ্য বইয়ে কাজী কাদের নেওয়াজের কবিতায় পড়েছিলাম, ‘মা’ কথাটি ছোট্ট অতি কিন্তু জেনো ভাই, ইহার চেয়ে নাম যে মধুর ত্রিভুবনে নাই।’ -হ্যাঁ, সত্যিই তাই। ‘মা’ পৃথিবীর সবচেয়ে শুদ্ধতম শব্দ। এর অর্থ অনবদ্য। শ্রুতিতেও মধুময়। মা ডাক শুনলে চোখের সামনে ভেসে ওঠে মায়াবী সুন্দর এক মুখ। যে মুখে লেগে থাকে স্নেহ, মমতা আর ভালোবাসা।

     

    তাইতো কবি লিখেছেন, ‘মধুর আমার মায়ের হাসি চাঁদের মতো লাগে’ ঠিক তাই, মায়ের মুখে চাঁদের মতো হাসি দেখতে ভালো লাগে পৃথিবীর সব সন্তানের। আর অস্থির পৃথিবীতে কেবল শান্তির জায়গা হচ্ছে মায়ের কোল।

     

    যদিও মায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে বর্তমানে সারা বিশ্বে ঘটা করে পালন করা হয় ‘মাদার্স ডে’ বা ‘মা দিবস’। তবে অনেক আগে এটি ছিলো নিছক একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান। আধুনিক কালে আমেরিকায় প্রথম ধর্মনিরপেক্ষভাবে দিনটি পালন শুরু হয়।

     

    আবার মা দিবস বা মাতৃ দিবস হলো একটি সম্মান প্রদর্শনের অনুষ্ঠান, যা মায়েদের সন্মানে এবং মাতৃত্ব, মাতৃক ঋণপত্র, এবং সমাজে মায়েদের প্রভাবের জন্য উদযাপন করা হয়।

     

    প্রাচীন গ্রিসে বিশ্ব মা দিবসের পালন করা হলেও আধুনিক কালে এর প্রবর্তন করেন অ্যানা জার্ভিস নামে এক মার্কিন নারী। ১৯১৪ সালে মার্কিন কংগ্রেসে প্রথম দিবসটি স্বীকৃতি পায়। ওই বছর যুক্তরাষ্ট্রে আনুষ্ঠানিকভাবে মে মাসের দ্বিতীয় রবিবারকে মায়েদের জন্য উৎসর্গ করে দিবসটি পালন শুরু হয়।

     

    বর্তমানে বিশ্বব্যাপী এ দিনটি পালন করা হয়। সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও এ দিনটি উদযাপন করা হয়। বিশেষ এই দিনটি বিশ্বজুড়ে মাতৃত্ব ও মাতৃসত্তার গুরুত্ব এবং তাৎপর্য স্মরণ করিয়ে দেয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে মায়ের প্রতি ছেলে মেয়েদের দ্বায়িত্ব এবং কর্তব্যের বিষয়ে নানা আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। মা কিংবা বাবা একটু বৃদ্ধ হয়ে গেলেই তারা যেনো সন্তানের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। পৃথিবীর এমন অনেক মা বাবা আছে যাদের সন্তানকে খেয়ে না খেয়ে পড়াশোনা করিয়ে বড় করার পর প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর তারা মা বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দেয় যা সত্যিই অমানবিক। তাই মা দিবসে সচেতন মহল বা মা প্রেমীদের দাবি প্রতি বৃদ্ধ মা বাবা যেনো সন্তানের বোঝা না হয়ে সন্তানের আর্শিবাদ হয়। প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর কোনো সন্তান যাতে তাদের মা বাবাকে আলাদা করে বা  বৃদ্ধাশ্রমে নয় বাসস্থানে সুন্দর একটা জায়গা করে দেয় । কারণ আমাদের নাবী করিম সাঃ সাল্লাম মার পায়ের নিচে  সন্তান বেহেশত বলে গেছেন। তাই প্রতিটি সন্তানের উচিৎ মা বাবা থাকতে তাদের কদর করা। দুনিয়ায় থাকতে বেহেশত অর্জন করা। তাই মা দিবসে এটাই একমাত্র আহ্বান হোক


    #এওয়াই

    বঙ্গাব্দ চালু করেছিলেন কে? সম্রাট আকবর নাকি গৌড়ের রাজা শশাঙ্ক

    ডিবিবি

    বাংলা ক্যালেন্ডারে ইংরেজি সালের পাশাপাশি যে বাংলা সালের হিসেব লেখা থাকে, সেই বঙ্গাব্দ চালু করেছিলেন কে? এই প্রসঙ্গে বারবার বিতর্ক দানা বেঁধেছে দুটি নামকে ঘিরে। মুঘল সম্রাট আকবর নাকি গৌড়ের রাজা শশাঙ্ক, কে প্রকৃতপক্ষে বঙ্গাব্দের প্রবর্তক? আসুন, শুনে নেওয়া যাক।

     

    বছরভর যে সাল তারিখ দিয়ে আমরা দিনের হিসেব রাখি, সকলেই জানেন তা খ্রিস্টাব্দের হিসেব। অর্থাৎ যীশু খ্রিস্টের জন্মসাল ধরে হিসেব করা। কিন্তু এর বাইরেও দুই বাংলার মানুষ পালন করেন বাংলা নববর্ষের দিনটিকেও। যেদিন থেকে শুরু হয় একটি নতুন বঙ্গাব্দ। জানেন কি, এই বঙ্গাব্দের প্রবর্তন করেছিলেন কে?

     

    এ কথা খতিয়ে দেখতে গেলে পিছিয়ে যেতে হবে কয়েকশো বছর। আজ আমরা যে ক্যালেন্ডার মেনে চলি, তা নির্ধারিত হয় সৌরবছরের হিসেবে। সূর্যের চারদিকে পৃথিবী একবার আবর্তন সম্পন্ন করে কত দিনে, তার উপরেই দাঁড়িয়ে আছে আধুনিক বছরের হিসেব। কিন্তু প্রাচীন বাংলায় এই হিসেব নির্ভর করত সূর্য নয়, বরং চাঁদের উপরে। বখতিয়ার খিলজির বঙ্গবিজয়ের পর বাংলাদেশে তৎকালীন প্রচলিত শকাব্দের পাশাপাশি প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে হিজরি সনের প্রচলন শুরু হয়। চান্দ্রমাস মেনেই তৈরি হয়েছিল এই হিজরি ক্যালেন্ডার।

     

    তাহলে বঙ্গাব্দ এল কীভাবে? ঐতিহাসিকদের মতে, হিজরি সন মোতাবেক ফসল তোলার সময়ের সঙ্গে খাজনা দেওয়ার সময় মেলানো যাচ্ছিল না কিছুতেই। অসময়ে খাজনা দিতে গিয়ে সমস্যার মুখে পড়ছিলেন চাষিরা। শেষমেশ মুঘল সম্রাট আকবর যখন ভারতের মসনদে, তখন এই সমস্যা দূর করার কথা ভাবা হল। আর এই সমস্যার সমাধান করতে গিয়েই নাকি এক নতুন ক্যালেন্ডার তৈরি করেন রাজজ্যোতিষী ফতেহউল্লাহ সিরাজি। চান্দ্রমাসের আরবীয় মডেলের বদলে তিনি ব্যবহার করেছিলেন পারস্য মডেল, যা শকাব্দের মতোই সৌরমাস ধরে চলত। ১৫৮৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে চালু হয় এই নতুন সাল। লোকমুখে তার নাম দাঁড়িয়েছিল ‘ফসলি সন’। পরবর্তী সময়ে এই ফসলি সনই বাংলা সাল বা ‘বঙ্গাব্দ’ নাম ধারণ করে বলে মনে করেছেন অনেক ঐতিহাসিক।

     

    এদিকে আবার কেউ কেউ দাবি করে থাকেন যে বঙ্গাব্দ প্রবর্তনের কৃতিত্ব আসলে আকবরের নয়, বরং গৌড় সম্রাট শশাঙ্কের। তাঁদের মতে, ষষ্ঠ শতকের শেষ দশকে গুপ্ত সাম্রাজ্যের সামন্ত রাজা এবং পরে স্বাধীন গৌড়ের শাসক শশাঙ্ক নিজের শাসনকালের সূচনাকে স্মরণীয় করে রাখতে সূর্যসিদ্ধান্ত ভিত্তিক বর্ষপঞ্জি বঙ্গাব্দের সূচনা করেন। যদিও এই দাবির পালটা জবাব দিয়েছেন ঐতিহাসিক ব্রতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়। ‘বঙ্গ, বাঙ্গালা ও ভারত’-এ তিনি লিখেছেন, “এই মতের স্বপক্ষে কিছু বলতে গেলে প্রথমেই প্রমাণ করতে হবে যে, শশাঙ্ক ৫৯৪ খ্রীষ্টাব্দে এক স্বাধীন রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বা অন্তত ওই সময়ে স্বাধীন ভাবে রাজত্ব করেছিলেন। এর কোনও নিশ্চিত প্রমাণ নেই, যদিও খ্রিস্টিয় ৭ম শতাব্দীর প্রথমভাগে তাঁর রাজত্ব সম্পর্কে যথেষ্ট তথ্য আমাদের আছে।” তিনি আরও বলেছেন, “শশাঙ্কের রাজ্যের সর্বাপেক্ষা বিস্তৃত সীমানার মধ্যে তাঁর পরবর্তী কালীন এক হাজার বৎসরের মধ্যে তারিখ যুক্ত যে বিরাট সংখ্যক লেখ আবিষ্কৃত হয়েছে, সেগুলিতে বঙ্গাব্দ ব্যবহারের চিহ্নই নেই।” সব মিলিয়ে, বঙ্গাব্দ আসলে কে প্রচলন করেছিলেন, তা নিয়ে বিতর্ক জারি রয়েছে আজ পর্যন্ত। তবে তার্কিক বিশেষজ্ঞদের অধিকতর সুদৃষ্টি বোধহয় সম্রাট আকবরের দিকেই নিয়ে যায়। তবুও তর্ক কি আর শেষ হয়!

    কৃতজ্ঞতা-সংবাদ প্রতিদিন

    #এওয়াই

    ঐতিহ্যের সমারোহ, শুভ নববর্ষ

    এনামুল হক বিজয়

     

    পুরোনোকে ফেলে বছর ঘুরে আবার এলো ঐতিহ্যের মহারোহ পূর্ণ শুভ নববর্ষ। বাঙালি এই দিনে পুরনো বছরের ব্যর্থতা নৈরাশ্য, ক্লেদ-গ্লানি ভুলে নতুন বছরকে মহানন্দে বরণ করে নেয়,সুখ সমৃদ্ধি ও সুখময় জীবন প্রাপ্তির আশায়। সম্রাট আকবরের সিংহাসন এর আরোহন এর সময় ৫ নভেম্বর ১৫৫৬ শুভ নববর্ষ শুরু। এই ঐতিহ্যের উৎসবটি মঙ্গল-শোভাযাএা, পুণ্যাহ, জব্বারের বলিখেলা, উপজাতিদের বৈসাবি, গম্ভীরা গানের অনুষ্ঠান, পান্তাভাত খাওয়া, হালখাতা খোলা ছায়ানটে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে ঐতিহ্যের সমারোহে উৎযাপন করা হয়।বাঙ্গালিরা ভোর সকালে নতুন জামা গায়ে দিয়ে পরিবারের সাথে নানা রকম ভর্তা দিয়ে পান্তা ভাত খেয়ে শুরু করে নতুন দিনের সূচনা।

    ১৯৮৯ সাল থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা সূচনা হয় আর মঙ্গল শোভাযাত্রা মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সকল শ্রেনীর মানুষ কে একত্র করা। সূর্য উঠার সাথে সাথে নতুন বছরের মঙ্গল কামনায় রমনা বটমূলে গানে গানে মুখরিত হয়ে উঠে। ঈসাখাঁ এর আমলের বইমেলার ধারাবাহিকতায় এখনো নানা জায়গায় বইমেলার আয়োজন করা হয়। বটবৃক্ষতলে নববধূ কৃষরিরা আসে তাদের পছন্দের বই সংগ্রহ করতে। চট্টগ্রামের জব্বারের বলিখেলা একটি লোকক্রীড়া এখনো সমারোহে আয়োজন হয়ে আসছে। রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য এলাকায় উপজাতিরা ধর্মীয় উৎসব হিসাবে বৈসাবি আয়োজন করে থাকে। শুভ নববর্ষ অঙ্গীকার হোক মুষ্টিমেয় ধনীর ভোগবিলাসের সর্কীণ উল্লাসে পরিণত নয়, দরিদ্র লাজ্জিত পীড়িত নিষ্ফল বিলাসে যেন পৃথিবী বিষগ্ন না হয়ে ওঠে। পাশবশক্তি যেন শান্তির শুভ শক্তির কাছে পরাভূত হয়।

     

    লেখক:

    এনামুল হক বিজয়
    শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ
    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

    বইমেলায় লেখক সন্ধ্যার আয়োজন করলো বইঝুড়ি ডটকম

    ডিবিবি

    লেখক প্রকাশক ও পাঠকদের মধ্যে মেলবন্ধন ঘটানোর লক্ষ্যে ১১ মার্চ বইঝুড়ি অমর একুশে বইমেলায় লেখক সন্ধ্যার আয়োজন করে।

     

    বইমেলা শব্দটি শুনলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে বাংলা একাডেমী আয়োজিত অমর একুশে বইমেলা। এই মেলাটি বইপ্রেমী মানুষদের মেলবন্ধনের জন্য এক অনন্য আয়োজন। জানা যায়, ১৯৭২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউসের সামনে বটতলায় শ্রী চিত্তরঞ্জন সাহা এক টুকরো চটের ওপর কলকাতা থেকে আনা ৩২টি বই সাজিয়ে বইমেলার শুরু করেন। যে বইগুলো ছিলো চিত্তরঞ্জন সাহা প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন বাংলা সাহিত্য পরিষদ (বর্তমানে মুক্তধারা প্রকাশনী) থেকে প্রকাশিত মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে অবস্থানকারী বাংলাদেশি শরণার্থীদের লেখা বই। নানা ধাপ পার হয়ে ১৯৮৪ সালে সাড়ম্বরে বর্তমানের অমর একুশে গ্রন্থমেলার সূচনা হয়। এরপর বেড়েছে মেলার পরিধি ও পাঠকসংখ্যা এবং ২০১৪ সালে ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’য় স্টলের সংখ্যা বাড়িয়ে বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্থানান্তরিত করে। বইমেলা চলাকালীন প্রতিদিন বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা সভা, কবিতা পাঠের আসর, লেখক আড্ডাসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

     

    অমর একুশে বইমেলায় সন্ধ্যার আয়োজনগুলো বরাবরই পাঠক ও লেখকদের মধ্যে মনোমুগ্ধতা ছড়ায়। গত ১১ জানুয়ারি বইঝুড়ি আয়োজন করে লেখক সন্ধ্যা নামক একটি অনুষ্ঠানের। যেখানে সম্মিলন ঘটে লেখক, প্রকাশক, পাঠকসহ বইয়ের জগতের মানুষদের। লেখালেখি, আগামীতে বাংলা সাহিত্যের অগ্রযাত্রা, অমর একুশে বইমেলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে লেখক সন্ধ্যায় আলাপ হওয়ার পাশাপাশি বইঝুড়ি ডটকম এর ওয়েবসাইট উদ্ভোধন করা হয়৷ লেখক সন্ধ্যায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাঠকপ্রিয় লেখক কিঙ্কর আহ্‌সান, মুহাম্মাদ ইব্রাহীম (কবি সাহেব), রফিকুল ইসলাম প্রিন্স প্রমুখ। এছাড়াও প্রকাশকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ওয়াসি তরফদার (জ্ঞানকোষ প্রকাশনী), সালমান ফারসি (পুস্তক প্রকাশন), আশিক সারওয়ার (পেপার ভয়েজার) সহ আরও অনেকেই।

     

    প্রসঙ্গত, বইঝুড়ি ডটকম একটি অনলাইন বুকশপ যারা বাংলা সাহিত্যের বইসমূহ পাঠকদের কাছে পৌঁছে দিতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। অফিস, ক্লাস ও ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দিনের কিছুটা সময় কাটানো হয় প্রতিটি মানুষের। অনেক নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের অনলাইনকেন্দ্রিক যেমন বাজার গড়ে উঠেছে, গত কয়েক বছর ধরে বই নিয়েও বইঝুড়ির মতো বেশ কিছু উদ্যোগ বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সময়ের অভাবে পাঠকদের খুব একটা বইপাড়া বলে খ্যাত স্থানগুলোতে যাওয়া হয়না। তবে অনলাইন বুকশপ থাকতে এ ব্যাপারে কোনো চিন্তা করতে হয়না। ঘরে বসেই প্রিয় সব বই এখন অল্প সময়ে পাওয়া যায়। লেখক সন্ধ্যা ও বইঝুড়ি ডটকম নিয়ে কথা বলেছেন বইঝুড়ির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক নাঈম হাসান। তিনি বলেন, বই হলো মনের জানালা। এ জানালা দিয়ে মানুষ জ্ঞানের রাজ্যে ভ্রমণ করে। যে সমাজে বই এর প্রসার যত বেশি, মানুষের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ যত বেশি সে সমাজ তত বেশি আলোকিত। সুতরাং আলোকিত বাংলাদেশ গড়তে আমাদেরকে বই এর প্রসার ঘটাতে হবে। প্রতিযোগিতা নয় বরং সহযোগিতাই হতে পারে আমাদের বই এর সমাজ গড়ার হাতিয়ার।

    কর্পোরেট জগতের হাসিমুখ ড্যাফোডিল গ্রুপের সিইও মোহাম্মদ নুরুজ্জামান

    ডিবিবি

    মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বাংলাদেশের কর্পোরেট জগতের একজন পরিচিত মুখ যিনি ব্রিটিশ কম্পিউটার সমিতির একজন প্রফেশনাল সদস্য এবং দেশের স্বনামধন্য ড্যাফোডিল গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

     

    মোহাম্মদ নুরুজ্জামানের জন্ম মেঘনা ও গোমতী পাড়ের কুমিল্লা জেলার মেঘনা উপজেলার একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে। পড়াশোনা করেছেন প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখান থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম এ এমবিএ করেন বাংলাদেশের একটি স্বনামধন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। এছাড়াও তিনি টেকনো ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটির একজন পিএইচডি স্কলারও।

     

    পড়াশোনা শেষে যখন বাংলাদেশের অধিকাংশ তরুণ বিসিএস আর সরকারি চাকরির পেছনে ছুটে বেড়ায়, সে প্রেক্ষাপটে নুরুজ্জামান নিজের ক্যারিয়ার শুরু করেন বাংলাদেশের বেসরকারি শিক্ষাখাতে। তারপর আর খুব একটা পেছনে ফিরতে হয়নি। তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি দেশ ও বিশ্বব্যাপী শিক্ষাখাত উন্নয়নে কাজ করেছেন। প্রযুক্তি এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নেও রয়েছে তার অসামান্য অবদান।

     

    সামাজিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে জড়িত রয়েছেন ড্যাফোডিল ফাউন্ডেশনের সাথে। তিনি ফুলকুঁড়ি সংঘ, উত্তরণ সোসাইটি, মেঘনা উপজেলা সমিতিসহ নানা সামাজিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা অথবা প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য। এছাড়াও বর্তমানে ড্যাফোডিল পরিবারের রয়েছে অসংখ্য প্রতিষ্ঠান। এরমধ্যে অন্যতম ড্যাফোডিল কম্পিউটারস, ড্যাফোডিল পিসি, ড্যাফোডিল অনলাইন, ড্যাফোডিল সফটওয়্যার, ড্যাফোডিল আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়, ড্যাফোডিল ইনস্টিটিউট অব আইটি, ড্যাফোডিল আন্তর্জাতিক কলেজ, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল প্রফেশনাল ট্রেইনিং ইনস্টিটিউট, জবসবিডি ডট কম, ডলফিন কম্পিউটার্স লিমিটেড, ড্যাফোডিল ওয়েব অ্যান্ড ই-কমার্স। ড্যাফোডিল পরিবারের এসব প্রতিষ্ঠানের অগ্রযাত্রায় তার রয়েছে অসামান্য অবদান।

     

    মোহাম্মদ নুরুজ্জামানের প্রফেশনাল ক্যারিয়ারে অসংখ্য উদ্যোগ তার নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে যাত্রা শুরু করেছে এবং সফলতা পেয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম ড্যাফোডিল বিজনেস ইনকিউবেটর, বাংলাদেশ ভেঞ্চার ক্যাপিটাল লি., ড্যাফোডিল স্টার্ট-আপ মার্কেট এবং এন্টারপ্রেনারশীপ ডেভেলপমেন্ট ফান্ড প্রভৃতি। এছাড়াও তিনি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির যুগান্তকারী ইনোভেশন এন্ড এন্টারপ্রেনারশীপ ডিপার্টমেন্ট প্রতিষ্ঠায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

     

    উল্লেখ্য ড্যাফোডিল গ্রুপ সিইও মোহাম্মদ নুরুজ্জামান
    বিশ্বব্যাপী চল্লিশটিরও বেশি দেশ ভ্রমণ করেন।তিনি বাংলাদেশ সফটওয়্যার টেস্টিং কোয়ালিফিকেশন বোর্ড এর প্রতিষ্ঠাতা এবং ইন্টারন্যাশনাল সফটওয়্যার টেস্টিং কোয়ালিফিকেশন বোর্ডের বাংলাদেশ প্রতিনিধি। ড্যাফোডিল গ্রুপের ওয়েবসাইট থেকে জানা যায় সর্বদা হাসিখুশি এই মানুষটি বলেন, বাংলাদেশ বিশ্ব জয় করবে, কারণ আমাদের রয়েছে সম্ভাবনা ও প্রতিভা। আমার স্বপ্ন বাংলাদেশকে তার যোগ্য অবস্থানে নিয়ে আসা। আমি আমার জ্ঞান, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, অর্জনগুলো দেশের সেবায় উৎসর্গ করব।

    যে পাঁচটি বিষয়ে ভুলেও গুগলে সার্চ করবেন না

    ডিবিবি

    কোনও কিছু জানার প্রয়োজন হলেই তথ্য-প্রযুক্তির এই যুগে মানুষ কারও মুখাপেক্ষী না হয়ে গুগলে সর্চ করেন। সমাধানও পেয়ে যায় দ্রুত। তৎক্ষণাত পেয়ে যান তার কাঙ্ক্ষিত বিষয়। তবে, ইন্টারনেট ব্যবাহারকারীদের গুগল সার্চের মধ্য দিয়ে ফাঁদ পাতে প্রতারকরা। দেখা যায় নিজের প্রয়োজনে সার্চ করতে গিয়ে উল্টে বিপদে পড়েন অনেকে। তাই গুগল সার্চে অন্তত ৫টি জিনিসের ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। বাংলাদেশ বার্তার পাঠকদের জন্য নিম্নে সেগুলো তুলে ধরা হলো।

     

    অ্যাপ ও সফটওয়্যার : অনেকেই বিভিন্ন অ্যাপ ও সফটওয়্যার সরাসরি গুগল সার্চ করে খোঁজেন। এমন কিছু অ্যাপও থাকে যা গুগল প্লে স্টোরে থাকে না। কিন্তু এভাবে ডট এপিকে ফাইল ডাউনলোডের ক্ষেত্রে সবসময়েই ঝুঁকি থেকে যায়। অজানা সাইট থেকে অ্যাপের আকারে ডাউনলোড হতে পারে ম্যালওয়্যার। ইনস্টল করার সঙ্গে সঙ্গেই আপনার প্রাইভেসির দফারফা। স্মার্টফোনের বারোটাও বাজতে পারে।

     

    ওষুধ ও চিকিৎসা : গুগল সার্চ ব্যবহার করে ডাক্তারি না করাই ভাল। টুকটাক শরীর খারাপের প্রাথমিক চিকিৎসা ইত্যাদি দেখতেই পারেন। তবে শরীর খারাপের ক্ষেত্রে গুগল সার্চ করে কোনও ওয়েবসাইট দেখে ডাক্তারি করা মোটেও বিচক্ষণ কাজ নয়। গুগল-এ সার্চ করে হঠাৎ কোনও ওষুধ, সাপ্লিমেন্টও কেনা অনুচিত।

     

    শেয়ার বাজার, ট্রেডিং-এর বুদ্ধ : গুগল-এ এ সম্মন্ধে সার্চ করলেই হাজারো ওয়েবসাইট ভরা পরামর্শ পাবেন। কিন্তু নির্দিষ্ট ও নামী কিছু ওয়েবসাইট ছাড়া শেয়ার বাজার সংক্রান্ত বুদ্ধি না নেওয়াই শ্রেয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন ভুয়া সংস্থা ‘ট্রেডিং’-এর নাম করে প্রতারণার ফাঁদ পেতে থাকে। তাই এই বিষয়ে গুগল সার্চের উপর বেশি নির্ভর না করাই ভাল।

     

    ব্যাংকিং সংক্রান্ত যে কোনও লিঙ্ক : গুগল সার্চ করে কোনও ব্যাঙ্কের ওয়েবসাইটে ঢোকার আগে সাবধান। ডুপ্লিকেট ভুয়া ওয়েবসাইট থেকে সর্বস্বান্ত হতে পারেন। তাই ব্যাংকিং-এর ক্ষেত্রে অবশ্যই সরাসরি ওয়েব অ্যাড্রেস টাইপ করে খুলুন। অথবা সেই ব্যাঙ্কেরই তৈরি অ্যাপ ব্যবহার করুন। অনলাইন লেনদেনের সময় থাকুন সতর্ক।

     

    কাস্টমার কেয়ার নম্বর : ধরুন আপনি অনলাইন কোনও জিনিস কিনেছিলেন। সেটি রিটার্ন করায় রিফান্ড পাবেন। কিন্তু ২ দিন পরেও টাকা ফেরত পাননি। এমন সময়ে কিন্তু ভুলেও গুগল করে সেই সংস্থার কাস্টমার কেয়ার নম্বর খুঁজতে যাবেন না। অনলাইন বিপণন সংস্থার আদলেই নকল ওয়েবসাইট খোলে প্রতারকরা। সেখানে থাকে ভুয়া নম্বর। সেই নম্বরে ফোন করলেই পড়তে হবে ফাঁদে।

    newsletter

    newsletter_description